৩২ গরু ৪৭ দিন রাখার খরচ প্রায় ৭ লাখ টাকা

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় আটক হয়েছিল ৩২টি ভারতীয় গরু। নিলামে তোলার আগ পর্যন্ত এই গরুগুলো লালন-পালনের দায়িত্ব দেয়া হয় উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদকে। ৪৭দিন পর আদালতের অনুমতিক্রমে গরুগুলো প্রকাশ্য নিলামে ২৫ লাখ টাকা বেচে দেয়া হয়। আর দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ ৪৭ দিন এই গরুগুলো লালন-পালনে ব্যয় দেখায় ছয় লাখ ৯৫ হাজার টাকা। প্রতিটি গরু লালন-পালনে প্রতিদিন ব্যয় দেখানো হয়েছে ৪৪৩ টাকা। এর বাইরে ব্যয় দেখানো হয় তিন লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

এ নিয়েই এখন আলোচনা চলছে লালমনিরহাটে। জেলার গরু খামারি ও ব্যবসায়ীরা একটি গরু লালন-পালনে প্রতিদিন ৪৪৩ টাকা ব্যয়কে ‘আজগুবি’ বলছেন। অনেকে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলছেন, সরকারি টাকা আত্মসাৎ করতেই এমন খরচের ভাউচার তৈরি করা হয়েছে।

অপরদিকে গরুগুলো নিলামে বিক্রিতেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কমিটির বিরুদ্ধে। অনেকের অভিযোগ, সাধারণ গরু ব্যবসায়ীদের নিলামে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়নি।

সূত্র জানায়, পাটগ্রামের দহগ্রাম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র গত ১১ মার্চ ভারতীয় ৩৩টি গরু আটক করে। গরুগুলো নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত পেতে কালক্ষেপণ হওয়ায় ওই গরুগুলো লালন-পালনের দায়িত্ব দেয়া হয় দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদকে। এর মধ্যে একটি গরু মারাও যায়। ৪৭ দিন পর আদালতের অনুমতিক্রমে গত ২৭ এপ্রিল গরুগুলো প্রকাশ্য নিলামে ২৫ লাখ টাকা বিক্রি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রামকৃষ্ণ বর্মণের নেতৃত্বাধীন নিলাম কমিটি।

এ নিলামকে কেন্দ্র করে ওই দিন দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংর্ঘষও হয়। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বলেন, সাধারণ গরু ব্যবসায়ীদের নিলামে অংশ নেয়ার সুযোগ না দিয়ে তাড়াহুড়ো করে নিলাম শেষে ইউনিয়ন পরিষদ ত্যাগ করেন নিলাম কমিটির সদস্যরা। যা নিয়ে সাধারণ গরু ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে এই গরুগুলোকে ৪৭ দিন লালন-পালনের জন্য দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ ছয় লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয় দেখিয়ে নিলাম কমিটির কাছ থেকে ভাউচার অনুমোদন করিয়ে নেয়। যে ভাউচারে প্রতিটি গরুর পেছনে দিনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৪৪৩ টাকা। ভাউচার মতে, একটি গরু প্রতিদিন ২২২ টাকার শুধু খাদ্যই খেয়েছে। এর বাইরে অন্যা ব্যয় দেখানো হয়েছে তিন লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

এই খরচ ‘কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়’ দাবি করে স্থানীয় গরু খামারি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা, শ্রমিক—সব মিলিয়ে প্রতিদিন একটি গরুর পেছনে ২০০ টাকাও ব্যয় হওয়ার কথা নয়, সেখানে কীভাবে ৪৪৩ টাকা হয়? তাছাড়া সঠিকভাবে লালন-পালন না করার কারণে একটি গরু মারাও গেছে। সেহেতু বোঝাই যায়, ওই গরুগুলোর পেছনে পরিমাণ মতোও ব্যয় করা হয়নি।

কয়েকজন খামারি অভিযোগ তুলে বলেন, সরকারি টাকা আত্মসাৎ করতেই এমন বিল-ভাউচার তৈরি করে অনুমোদন নেয়া হয়েছে। যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। এ অনিয়মের সঙ্গে একটি সিন্ডিকেট জড়িত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান কামাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমি শুধু খাদ্য সরবরাহ করেছি। এতে ৪৭ দিনে তিন লাখ ৪৯ হাজার টাকার খাদ্য গিয়েছে। বাকি ব্যয়ের সঙ্গে আমি জড়িত নই।’

পাটগ্রাম উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র বলেন, ‘প্রতিটি গরুর পেছনে প্রতিদিন ৪৪৩ টাকা ব্যয় হয়েছে, এটা অতিরিক্ত নয়। সব নিয়ম মেনেই ব্যয় হয়েছে।’

আর পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নিলাম কমিটির সভাপতি রামকৃষ্ণ বর্মণ জাগো নিউজকে বলেন, ‘গরুগুলো ২৫ লাখ টাকায় প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি হয়েছে। ওই গরুগুলো লালন-পালন বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার টাকা। ব্যয় অতিরিক্ত ধরা হয়েছে কি-না তা আমি বলতে পারবো না। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাই ভালো বলতে পারবেন।’

এইচএ/জেআইএম

সর্বশেষ সংবাদ