হেফাজত নেতাদের সাক্ষাতে ‘ব্যবস্থা’ নেওয়া থামবে না: তথ্যমন্ত্রী

হেফাজত নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করায় ‘দুস্কৃতকারীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বন্ধ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বুধবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

হাছান মাহমুদ বলেন, “আমরা যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী, মুজিব শতবর্ষ পালন করছি, তখন ২৬ থেকে ২৮ মার্চ সারাদেশে হেফাজতের ব্যানারে তাণ্ডব চালানো হলেও এতে অংশগ্রহণ ছিল বিএনপি-জামায়াতের।

“স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে মাঝে-মধ্যে তারা দেখা করেন। কিন্তু দেখা-সাক্ষাতের কারণে দুস্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ব্যাহত হবে না, কারণ দুস্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে ঢাকা এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়াসব দেশের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থক ও মাদ্রাসা ছাত্ররা। এসব ঘটনায় অর্ধশতাধিক মামলায় কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক এই সংগঠনটির বেশ কিছু নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে দুই দফা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন হেফাজত নেতারা।

হেফাজতের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও সাবেক কমিটির মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীর নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতারা মঙ্গলবার রাতেও মন্ত্রীর ধানমণ্ডির বাসভবনে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন এবং দেশজুড়ে গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান।

খালেদা জিয়ার ‘আরোগ্য কামনা’

ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ‘আরোগ্য কামনা’ করেন তথ্যমন্ত্রী।

সেই সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তার এই অসুস্থতার অজুহাত সামনে এনে তাকে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। করোনার চিকিৎসা তো আমাদের দেশে যা, ইংল্যান্ডেও তা, সিঙ্গাপুরেও তা, ইউরোপেও তা। সুতরাং এই ধরনের দাবি আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত খালেদা জিয়াকে গত ২৭ এপ্রিল ঢাকার এভারকেয়ার হাসপপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শ্বাসকষ্ট বাড়ায় মঙ্গলবার তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করেন চিকিৎসকরা।

দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত খালেদাকে কোভিড-১৯ মহামারী শুরুর পর পরিবারের আবেদনে সরকার গত বছরের ২৫ মার্চ শর্তসাপেক্ষে সাময়িক মুক্তি দেয়। ওই শর্তে তার দেশে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়টি রয়েছে।

এবার হাসপাতালে ভর্তির পর তাকে বিদেশ নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

মঙ্গলবার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, বিদেশে যেতে হলে খালেদা জিয়ার আদালত থেকে আদেশ আনতে হবে, এ বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কৃষক লীগ আয়োজিত ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতি ছিলেন সংগঠনের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দ। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। 

দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতিও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

সর্বশেষ সংবাদ