ইমরুলের শেখ জামালকে থামাবে কে!

  ক্রীড়া প্রতিবেদক,  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published: 15 Apr 2022 06:03 PM BdST Updated: 15 Apr 2022 06:03 PM BdST বড় কোনো তারকা নেই দলে। শক্তি-সামর্থ্যে খুব সমৃদ্ধও নয়। লিগ শুরুর আগে ট্রফির বিবেচনায় কজনই বা রেখেছিলেন শেখ জামালকে! সেই দলটিই মাঠের ক্রিকেটে অপ্রতিরোধ্য। বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের শিরোপা জয়ী অধিনায়ক এখানেও দারুণ সফল এখনও পর্যন্ত। এবার তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে জয় এনে দিলেন সিটি ক্লাবের বিপক্ষে। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বড় পুঁজি না নিয়েও বড় জয়ে শীর্ষস্থান আরও সংহত করল শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। শুক্রবার সিটি ক্লাবের বিপক্ষে তাদের জয় ৫৩ রানে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াডের উইকেট যথারীতি ছিল ব্যাটিং দুরূহ। বাউন্সি ছিল অসমান, ব্যাটে বল আসে ধীরে। শেখ জামাল খুব সুবিধে করতে না পেরে অলআউট হয় ১৯৭ রানে। রান তাড়ায় সিটি ক্লাব জয়ের সম্ভাবনাই জাগাতে পারেনি সেভাবে। গুটিয়ে যায় তারা ১৪৪ রানে।

১০ ম্যাচে ৯ জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে শেখ জামাল। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে তারা ৪ পয়েন্ট এগিয়ে।

৮৯ বলে ৬১ রান করে ম্যাচের সেরা ইমরুল। ম্যাচের একমাত্র ফিফটি আসে শেখ জামালের অধিনায়কের ব্যাট থেকেই।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শেখ জামাল হোঁচট খায় শুরুতেই। ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই ওপেনার সৈকত আলি আলতো শটে মিড অনে ক্যাচ তুলে দেন সিটি ক্লাবের পেসার আব্দুল হালিমের বলে।

আরেক ওপেনার সাইফ হাসান শুরু করেন একটু আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে। বাঁহাতি পেসার শাহরিয়ার আলমকে কাভার ড্রাইভে চার দিয়ে শুরুর পর লফটেড অফ ড্রাইভে ছক্কা মারেন হালিমকে। একটু পর হালিমকেই আরেকটি লফটেড অফ ড্রাইভ খেলে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার ইনিংস (১৯ বলে ১৮)।

শেখ জামাল পরে আরও বড় বড় ধাক্কা খায় বড় ভরসা পারভেজ রসুলকে স্রেফ ৮ রানেই হারিয়ে।

৫৪ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে এগিয়ে নেন ইমরুল কায়েস ও নুরুল হাসান সোহান। চতুর্থ উইকেটে ৫৪ রানের জুটি গড়েন দুজন।

বাংলাদেশ টেস্ট দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করে ফেরা সোহান যথারীতি থিতু হয়ে বিলিয়ে আসেন উইকেট। ২২ রানে আউট হন তিনি মইনুল ইসলামের বাঁহাতি স্পিন উড়িয়ে মারার চেষ্টায়।

একটা পাশ আগলে শেখ জামালকে এগিয়ে নিতে থাকা ইমরুলের লড়াইও শেষ হয় মইনুলের বলেই। লেগ স্টাম্পের বাইরের বল সুইপ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তিনি।

এরপর দুই অভিজ্ঞ তাইবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান শুরুটা ভালো করেও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। দশে নেমে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরির দারুণ একটি ক্যামিও দলকে নিয়ে যায় দুইশর কাছে।

২ চার ও ১ ছক্কায় ১৩ বলে ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন মৃত্যুঞ্জয়। শেখ জামালের ইনিংস শেষ হয় ২২ বল আগেই।

উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন হলেও ১৯৮ রানের লক্ষ্য থাকার কথা যে কোনো দলের নাগালের মধ্যেই। তবে সেই লড়াইয়ের তাগিদই ফুটে উঠল না সিটি ক্লাবের ব্যাটিংয়ে। শুরু থেকেই তাদের ব্যাটিংয়ে ছিল ঝিমুনি। ৫ ওভারে রান ছিল ১০। ১০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ২৩।

নতুন বলে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে পারভেজ রসুল, পরে মৃত্যুঞ্জয়, সানজামুল ইসলামদের সাঁড়াশি আক্রমণে ৪৮ রানে ৫ উইকেট হারায় সিটি ক্লাব।

চেষ্টা থাকলে এই উইকেটেও যে রান করা যায়, তা দেখান সিটি ক্লাবেরই জাওয়াদ রোয়েন। ছয়ে নেমে দারুণ খেলে কিছুটা লড়াই করেন তিনি। ৫ চার ও ১ ছক্কায় তার ৫০ বলে ৪৫ রানের ইনিংস শেষ হয় রবিউল ইসলাম রবির বলে স্টাম্পড হয়ে।

রবির অফ স্পিনে পরে ধরা দেয় আরও দুটি উইকেট। অভিজ্ঞ নাজমুল হোসেন মিলন আটে নেন ৩৩ রান করেন বটে। তবে তাতে ব্যবধানই কমে কেবল। তার পরও সিটি ক্লাব পারেনি শেখ জামালের ধারেকাছে যেতে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শেখ জামাল: ৪৬.২ ওভারে ১৯৭ (সৈকত ০, সাইফ ১৮, ইমরুল ৬১, রাসুল ৯, সোহান ২২, রবি ২৪, তাইবুর ১৪, জিয়া ১৪, সানজামুল ২, মৃত্যুঞ্জয় ২০*, আরিফ ১; হালিম ৮-০-৪১-৩, শাহরিয়ার ৬.২-০-২-১৮-২, রোয়েন ১০-০-৩২-০, রাজিবুল ১০-০-৪৭-২, আব্দুল্লাহ ২-০-২০-০, মইনুল ১০-০-৩৮-৩)।

সিটি ক্লাব : ৪৩.১ ওভারে ১৪৪ (তৌফিক ১০, কমল ১, জাকিরুল ১৯, মইনুল ১, আশিক ১৩, রোয়েন ৪৫, আব্দুল্লাহ ১২, নাজমুল মিলন ৩৩, রাজিবুল ২, হালিম ২, শাহরিয়ার ০*; জিয়া ৫-০-১৫-২, রাসুল ৮.১-১-২৩-২, আরিফ ৪-১-২২-১, সানজামুল ৯-১-৩৪-১, মৃত্যুঞ্জয় ৭-০-২৩-১, তাইবুর ১-০-৮-০, রবি ৯-০-১৯-৩)।

ফল: শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ৫৩ রানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: ইমরুল কায়েস। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বড় পুঁজি না নিয়েও বড় জয়ে শীর্ষস্থান আরও সংহত করল শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। শুক্রবার সিটি ক্লাবের বিপক্ষে তাদের জয় ৫৩ রানে।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়াডের উইকেট যথারীতি ছিল ব্যাটিং দুরূহ। বাউন্সি ছিল অসমান, ব্যাটে বল আসে ধীরে। শেখ জামাল খুব সুবিধে করতে না পেরে অলআউট হয় ১৯৭ রানে। রান তাড়ায় সিটি ক্লাব জয়ের সম্ভাবনাই জাগাতে পারেনি সেভাবে। গুটিয়ে যায় তারা ১৪৪ রানে।

১০ ম্যাচে ৯ জয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে শেখ জামাল। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে তারা ৪ পয়েন্ট এগিয়ে।

৮৯ বলে ৬১ রান করে ম্যাচের সেরা ইমরুল। ম্যাচের একমাত্র ফিফটি আসে শেখ জামালের অধিনায়কের ব্যাট থেকেই।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শেখ জামাল হোঁচট খায় শুরুতেই। ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই ওপেনার সৈকত আলি আলতো শটে মিড অনে ক্যাচ তুলে দেন সিটি ক্লাবের পেসার আব্দুল হালিমের বলে।

আরেক ওপেনার সাইফ হাসান শুরু করেন একটু আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে। বাঁহাতি পেসার শাহরিয়ার আলমকে কাভার ড্রাইভে চার দিয়ে শুরুর পর লফটেড অফ ড্রাইভে ছক্কা মারেন হালিমকে। একটু পর হালিমকেই আরেকটি লফটেড অফ ড্রাইভ খেলে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার ইনিংস (১৯ বলে ১৮)।

শেখ জামাল পরে আরও বড় বড় ধাক্কা খায় বড় ভরসা পারভেজ রসুলকে স্রেফ ৮ রানেই হারিয়ে।

৫৪ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে এগিয়ে নেন ইমরুল কায়েস ও নুরুল হাসান সোহান। চতুর্থ উইকেটে ৫৪ রানের জুটি গড়েন দুজন।

বাংলাদেশ টেস্ট দলের হয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করে ফেরা সোহান যথারীতি থিতু হয়ে বিলিয়ে আসেন উইকেট। ২২ রানে আউট হন তিনি মইনুল ইসলামের বাঁহাতি স্পিন উড়িয়ে মারার চেষ্টায়।

একটা পাশ আগলে শেখ জামালকে এগিয়ে নিতে থাকা ইমরুলের লড়াইও শেষ হয় মইনুলের বলেই। লেগ স্টাম্পের বাইরের বল সুইপ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন তিনি।

এরপর দুই অভিজ্ঞ তাইবুর রহমান ও জিয়াউর রহমান শুরুটা ভালো করেও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। দশে নেমে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরির দারুণ একটি ক্যামিও দলকে নিয়ে যায় দুইশর কাছে।

২ চার ও ১ ছক্কায় ১৩ বলে ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন মৃত্যুঞ্জয়। শেখ জামালের ইনিংস শেষ হয় ২২ বল আগেই।

উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন হলেও ১৯৮ রানের লক্ষ্য থাকার কথা যে কোনো দলের নাগালের মধ্যেই। তবে সেই লড়াইয়ের তাগিদই ফুটে উঠল না সিটি ক্লাবের ব্যাটিংয়ে। শুরু থেকেই তাদের ব্যাটিংয়ে ছিল ঝিমুনি। ৫ ওভারে রান ছিল ১০। ১০ ওভার শেষে ৩ উইকেটে ২৩।

নতুন বলে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে পারভেজ রসুল, পরে মৃত্যুঞ্জয়, সানজামুল ইসলামদের সাঁড়াশি আক্রমণে ৪৮ রানে ৫ উইকেট হারায় সিটি ক্লাব।

চেষ্টা থাকলে এই উইকেটেও যে রান করা যায়, তা দেখান সিটি ক্লাবেরই জাওয়াদ রোয়েন। ছয়ে নেমে দারুণ খেলে কিছুটা লড়াই করেন তিনি। ৫ চার ও ১ ছক্কায় তার ৫০ বলে ৪৫ রানের ইনিংস শেষ হয় রবিউল ইসলাম রবির বলে স্টাম্পড হয়ে।

রবির অফ স্পিনে পরে ধরা দেয় আরও দুটি উইকেট। অভিজ্ঞ নাজমুল হোসেন মিলন আটে নেন ৩৩ রান করেন বটে। তবে তাতে ব্যবধানই কমে কেবল। তার পরও সিটি ক্লাব পারেনি শেখ জামালের ধারেকাছে যেতে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

শেখ জামাল: ৪৬.২ ওভারে ১৯৭ (সৈকত ০, সাইফ ১৮, ইমরুল ৬১, রাসুল ৯, সোহান ২২, রবি ২৪, তাইবুর ১৪, জিয়া ১৪, সানজামুল ২, মৃত্যুঞ্জয় ২০*, আরিফ ১; হালিম ৮-০-৪১-৩, শাহরিয়ার ৬.২-০-২-১৮-২, রোয়েন ১০-০-৩২-০, রাজিবুল ১০-০-৪৭-২, আব্দুল্লাহ ২-০-২০-০, মইনুল ১০-০-৩৮-৩)।

সিটি ক্লাব : ৪৩.১ ওভারে ১৪৪ (তৌফিক ১০, কমল ১, জাকিরুল ১৯, মইনুল ১, আশিক ১৩, রোয়েন ৪৫, আব্দুল্লাহ ১২, নাজমুল মিলন ৩৩, রাজিবুল ২, হালিম ২, শাহরিয়ার ০*; জিয়া ৫-০-১৫-২, রাসুল ৮.১-১-২৩-২, আরিফ ৪-১-২২-১, সানজামুল ৯-১-৩৪-১, মৃত্যুঞ্জয় ৭-০-২৩-১, তাইবুর ১-০-৮-০, রবি ৯-০-১৯-৩)।

ফল: শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব ৫৩ রানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: ইমরুল কায়েস। ট্যাগ :

প্রিমিয়ার লিগ ইমরুল বাংলাদেশ