রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ১৯ জানুয়ারি : মোমেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, আগামী ১৯ জানুয়ারি ঢাকায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার ১৩ (জানুয়ারি) লালমাটিয়ায় সূরের ধারা’র পৌষ উৎসবে (শীত উৎসব) যোগ দিয়ে সাংবাদিকদেরকে এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘এবারের বৈঠকটি (ত্রিপক্ষীয়) হবে সচিব পর্যায়ের। আমরা আমাদের প্রত্যাশাকে অনেক উঁচুতে রেখেছি (ইতিবাচক ফলাফল সম্পর্কে)। ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি এই সপ্তাহে হওয়ার কথা ছিল। তবে এরই মধ্যে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মিয়ানমার সফরের কথা থাকায় বৈঠকটি পিছিয়ে ১৯ জানুয়ারি করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, চীন ও মিয়ানমার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ঢাকায় অবস্থান করবেন।

এর আগে চীন বাংলাদেশকে আশ্বাস দিয়েছিল যে, তারা গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনের পরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে একটি ত্রিপক্ষীয় আলোচনার দ্বিতীয় ধাপের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেবে।

বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠকটি ২০১৯ সালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

ড. মোমেন বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ৮ লাখ ৪০ হাজার জনের বায়োমেট্রিক তথ্য হস্তান্তর করেছে। এর আগে আমরা প্রায় ৬ লাখ বায়োমেট্রিক ডাটা হস্তান্তর করেছি, গত পরশু আমরা তাদের ২ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গার বায়োমেট্রিক ডাটা সরবরাহ করেছি।’

মন্ত্রী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত ৮.৪ লাখের মধ্যে মাত্র ৪২ হাজার বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করেছে। ‘এটি দুর্ভাগ্যজনক … (মিয়ানমারের) আন্তরিকতার বিশাল ঘাটতি রয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

ঢাকা ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে আশাবাদী কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ঢাকা সবসময় আশাবাদী।

‘আমরা আমাদের কাজের অংশটি করছি… তবে আমাদের প্রতিবেশী আমাদের সহযোগিতা করছে না।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় উল্লেখ করেন যে, ‘রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের একমাত্র সমাধান প্রত্যাবাসন। প্রত্যাবাসনের বিকল্প নেই।’

বাংলাদেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১.১ মিলিয়ন (১১ লাখ) রোহিঙ্গাকে কক্সবাজার জেলায় আশ্রয় দিয়েছে। মিয়ানমারে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট সামরিক অভিযানের পর থেকে এদের বেশিরভাগই এখানে পৌঁছেছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য অধিকার সংস্থা এটিকে ‘জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তক উদাহরণ’ ও ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছে।

গত তিন বছরে মিয়ানমার একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি। রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের আদিভূমিতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে আস্থার ঘাটতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দুইবার ভেস্তে যায়।

এআরএ

সর্বশেষ সংবাদ