ঢাকা, শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

কাজা নামাজের নিয়ত ও আদায়ের নিয়ম

ধর্ম ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৫ ফেব্রুয়ারি ০৬ ১৮:৩০:২৩
কাজা নামাজের নিয়ত ও আদায়ের নিয়ম

ফরজ বা ওয়াজিব নামাজ যথাসময়ে আদায় না করতে পারলে সেই নামাজের কাজা করতে হবে। যদি কোনো কারণে, যেমন ঘুমিয়ে থাকা, ভুলে যাওয়া অথবা অন্য কোনো অসুবিধার জন্য নামাজ সময়মতো আদায় না করা হয়, তবে পরবর্তীতে সেটি আদায় করা হয় কাজা নামাজ হিসেবে। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

"لَيْسَ فِي النَّوْمِ تَفْرِيطٌ إِنَّمَا التَّفْرِيطُ فِي الْيَقَظَةِ. فَإِذَا نَسِيَ أَحَدُكُمْ صَلَاةً أَوْ نَامَ عَنْهَا فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ: وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لذكري"

অর্থাৎ, ঘুমিয়ে থাকার কারণে নামাজ বাদ পড়লে তা অপরাধ নয়, অপরাধ হচ্ছে জেগে থেকেও নামাজ না পড়া। যে কেউ যদি নামাজ পড়তে ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে থাকে, তখন যখনই তার স্মরণে আসবে, তাকে নামাজ আদায় করে নিতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “আমার স্মরণে নামাজ আদায় কর।” (সূরা ত্বহা: ১৪)

কাজা নামাজের নিয়ত সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোনো নামাজ আদায় করার আগে সেই নামাজ কত রাকাত পড়বেন, সেটা মনে মনে স্থির করে নেওয়া যায়। মুখে বলার দরকার নেই এবং কোনো নির্ধারিত বাক্যও নেই। কাজা নামাজের ক্ষেত্রেও সেই নিয়ম একই। কোনো দিনের কোন ওয়াক্তের কাজা নামাজ আদায় করছেন, এটি মনে মনে স্থির করে "আল্লাহু আকবর" বলে নামাজ শুরু করতে হবে। মুখে বলার জন্য কোনো বিশেষ বাক্য নেই।

কিছু মানুষ যদি অনেক কাজা নামাজে আটকেপড়ে যান এবং কাজা হওয়া দিনের বা সময়ের সংখ্যা মনে না থাকে, তাদের জন্য পরামর্শ হলো, তারা নিয়ত করবেন—"আমার উপর যে কাজা নামাজ রয়েছে, তা আদায় করতে যাচ্ছি।" এই নিয়ত করতে গিয়ে, যেমন জোহরের নামাজের কাজা আদায় করছেন, সেটি মনস্থির করে আছলে, পরবর্তীতে সব ওয়াক্তের কাজা নামাজের নিয়ত করতে হবে। যতদিন না মন থেকে মনে হয় যে সব কাজা নামাজ আদায় হয়ে গেছে, ততদিন কাজা নামাজ পড়া উচিত।

এভাবে, যদি কেউ নিয়মিতভাবে কাজা নামাজ আদায় করে এবং সঠিক নিয়ত করে, তবে আল্লাহর রহমতে তারা অবশ্যই সঠিকভাবে কাজা নামাজ আদায় করতে পারবেন।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ