ঢাকা, শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

শবে বরাত ২০২৫: নামাজের নিয়ম, দোয়া ও গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক তারিখসমূহ

ধর্ম ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৫ ফেব্রুয়ারি ০৭ ১০:৪৭:০১
শবে বরাত ২০২৫: নামাজের নিয়ম, দোয়া ও গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক তারিখসমূহ

পবিত্র শবে বরাত ২০২৫ সালে পালিত হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি, শনিবার। মুসলিম উম্মাহর কাছে এই রাত বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি ‘লাইলাতুল বরাত’ বা ‘মুক্তির রজনী’ নামে পরিচিত। এই রাতে মহান আল্লাহ বান্দাদের গুনাহ মাফ করেন এবং রহমত বর্ষণ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়।

শবে বরাতের নামাজ: কত রাকাত ও কীভাবে পড়তে হবে?

শবে বরাতের নামাজ মূলত নফল। এ কারণে অন্য নফল নামাজের মতোই দুই রাকাত করে পড়া যায়। মহানবী (সা.) বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করেননি, তাই সাধ্যের মধ্যে যতটুকু সম্ভব নামাজ পড়া উত্তম।

মাগরিবের পর: জীবনের আয়ু ও ঈমানের বরকতের জন্য ৬ রাকাত নফল নামাজ পড়ার সুপারিশ করা হয়।

এশার নামাজের পর: সারারাত দুই রাকাত করে নফল নামাজ আদায় করা যায়।

কাজা নামাজ: অতীতে ছুটে যাওয়া ফরজ নামাজ এই রাতে আদায়ের সুযোগ রয়েছে।

সালাতুল তাসবীহ: এই নামাজের মাধ্যমে অনেক সওয়াব অর্জন করা সম্ভব। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নামাজ সর্বোত্তম ইবাদত।

শবে বরাতের নামাজের নিয়ত

নাওয়াইতুআন্ উছল্লিয়া লিল্লা-হি তাআ-লা- রাকআতাই ছালা-তি লাইলাতিল বারা-তিন্ -নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা-জিহাতিল্ কাবাতিশ্ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

বাংলায়: ‘শবে বরাতের দুই রাকাত নফল নামাজ কিবলামুখী হয়ে পড়ছি, আল্লাহু আকবার।’

লাইলাতুল বারাতের ফজিলত

হজরত মুয়ায ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

“আল্লাহ তাআ’লা অর্ধ-শাবানের রাতে সৃষ্টিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”

বিশেষ দোয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) রজব ও শাবান মাসে একটি বিশেষ দোয়া পড়ার তাগিদ দিয়েছেন।

اَللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِىْ رَجَبَ وَ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ

(অর্থ) ‘হে আল্লাহ, আমাদের রজব ও শাবান মাসে বরকত দিন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’

২০২৫ সালের ইসলামিক গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ

শবে বরাত, রমজান, শবে কদর, ঈদ ও হজের সম্ভাব্য তারিখ:

শবে বরাত: ১৫ ফেব্রুয়ারি, শনিবার।

বিশ্ব ইজতেমা: ৩১ জানুয়ারি - ২ ফেব্রুয়ারি ও ৭-৯ ফেব্রুয়ারি।

রমজান শুরু: ২৮ ফেব্রুয়ারি (চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল)।

জুমাতুল বিদা: ২৮ মার্চ, শুক্রবার।

শবে কদর: ২৭ মার্চ, বৃহস্পতিবার।

ঈদুল ফিতর: ৩০ বা ৩১ মার্চ (চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল)।

ঈদুল আজহা: ৭ জুন, শনিবার।

হজ: ৫ জুন থেকে (চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল)।

আশুরা: ৬ জুলাই, রবিবার।

ঈদে মিলাদুন্নবী: ৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার।

চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরতা

রমজান, ঈদ, হজ, শবে বরাত, শবে কদর, শবে মেরাজ ও আশুরার তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। ইসলামিক ক্যালেন্ডারের তারিখ চাঁদ দেখার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।

শবে বরাতের রাতে ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত ও আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা উত্তম। আল্লাহ আমাদের সবার গুনাহ ক্ষমা করুন এবং রহমত দান করুন। আমিন।

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ