ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ মার্চ ২০২৫, ১৩ চৈত্র ১৪৩১

বাংলাদেশকে আর কোন ছাড় দিবে না ভারত

২০২৫ মার্চ ২০ ১২:৪৪:৪৯
বাংলাদেশকে আর কোন ছাড় দিবে না ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র টানাপোড়েন, যার ফলে বন্ধ হয়ে গেছে ভিসা কার্যক্রমও। তবে, এই অস্থিরতার মাঝেও বাংলাদেশ মেডিকেল ভিসা পুনরায় চালু করার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু ভারত কোনোভাবেই সাড়া দিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে চীন বাংলাদেশকে নতুন একটি পরিকল্পনা সাজাচ্ছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যতকে নতুন দিশা দিতে পারে।

শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের দায়িত্ব নেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর থেকেই ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে চিকিৎসা নিতে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিদের উপর। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আট মাস পরেও পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়নি। মেডিকেল ভিসা পুনরায় চালু করার জন্য বাংলাদেশের আবেদনে সাড়া দিচ্ছে না ভারত।

এদিকে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের এই অস্থিরতার মধ্যে চীন বাংলাদেশকে প্রতি নতুন পরিকল্পনা সাজাচ্ছে, যা ভারতের উপর বাংলাদেশের নির্ভরশীলতা কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গড়ার একটি বিরল সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে মেডিকেল সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রয়েটার্স এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশীরা ভারতে সাধারণত সাশ্রয়ী মূল্যের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিতে যেতেন, যা দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ককে দৃঢ় করেছে এবং চীনের আঞ্চলিক প্রভাব সীমিত রাখতে সহায়তা করেছে। তবে, ভারতের ভিসা নীতিতে পরিবর্তন আসার পর চীন বাংলাদেশের জন্য আকর্ষণীয় একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াওয়ান বলেছেন, চিকিৎসা পর্যটন বাজারে সম্ভাবনা অনুসন্ধান করতে এই মাসে একদল বাংলাদেশী চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ ইউনিয়ন সফর করেছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর, চীনের ১৪টি কোম্পানি বাংলাদেশে ২৩০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে। চীন ঢাকায় একটি ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল খোলার পরিকল্পনা করছে, যেখানে চিকিৎসা নিতে আসাদের জন্য প্রবেশাধিকার সহজ করা হবে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা গভীর করার জন্য বাংলাদেশে কাজ করতে তারা আগ্রহী। তাদের মতে, চীন ও বাংলাদেশের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয়, এবং এটি তৃতীয় পক্ষের দ্বারা প্রভাবিত নয়।

এই সংকটের সূচনা হয়েছিল, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার পর আগস্ট মাসে ভারত তাদের মিশন থেকে অনেক কূটনৈতিক ও পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেয়। এরপর থেকেই এই সংকটের শুরু হয়।

শাহাদাত/

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ