ঢাকা, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫, ১৯ চৈত্র ১৪৩১

ড. ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্ত: ভারতের সুবিধা বন্ধ

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৫ মার্চ ২১ ১২:১২:৩৬
ড. ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্ত: ভারতের সুবিধা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: যতই আড়ালে সতর্কতা দেওয়া হোক না কেন, ভারতের যেসব বার্তা বাংলাদেশ গুরুত্ব দেয় না, তা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এটি আবার প্রমাণিত হলো। ভারতের সঙ্গে কোনো বিষয়েই আর বিন্দু পরিমাণ ছাড় না দেওয়ার শঙ্কা এবার কার্যকর হলো একটি নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।

বাংলাদেশ সরকার বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময়সীমায় পরিবর্তন এনেছে। এতদিন অভিযোগ ছিল যে, বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞার সময়ে ভারতীয় জেলেরা অবাধে বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ ধরে নিয়ে যেত। এবার সেই সুবিধা বন্ধ হয়ে গেছে।

মাছের বংশবিস্তার ও টেকসই আহরণের জন্য বাংলাদেশ এবং ভারত দুটি নির্দিষ্ট সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছিল। তবে এবার ভারতীয় জেলেদের সেই সুবিধা বন্ধ করে দিয়ে, বাংলাদেশ সরকার নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশের জলসীমায় মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা ছিল প্রতি বছর ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত, মোট ৬৫ দিন। অন্যদিকে, ভারতের জলসীমায় ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ৬১ দিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। দুই দেশের নিষেধাজ্ঞার সময়সীমার এই পার্থক্য ছিল, যার কারণে জুন-জুলাই মাসে বাংলাদেশী জেলেরা এক মাসের বেশি সময় মাছ ধরতে পারতেন না। আর এই সময়টাতে ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে অবাধে মাছ ধরে নিয়ে যেত। এর ফলে, বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষার উদ্যোগ ব্যাহত হতো এবং কয়েক লাখ মৎস্যজীবী পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হতো।

নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার থেকে প্রতিবছর ভারতের মতো একই সময়ে, অর্থাৎ ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন বাংলাদেশে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা থাকবে। সময়সীমা কমিয়ে আনার পাশাপাশি, ভারতের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে মিলিয়ে একই সময়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছে মৎস্য গবেষক, মৎস্যজীবী সংগঠন, ট্রলার মালিক ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। তারা আশা করছেন, এই নতুন পদক্ষেপ সমুদ্র মৎস্য খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আনবে।

বাংলাদেশের মৎস্য গবেষক, জেলে এবং ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় নিষেধাজ্ঞার সময়সীমার সঙ্গে মিলিয়ে বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভারতে বেশি লাভ হওয়ায় বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে। ফলে, নিষেধাজ্ঞার পরও কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া যাচ্ছিল না।

এখন, এই নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশের মৎস্য খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হতে চলেছে।

রানি/

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ