ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১

ফের শেখ হাসিনার কল রেকর্ড ফাঁস

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৫ মার্চ ২৩ ১৬:২৮:৫৭
ফের শেখ হাসিনার কল রেকর্ড ফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ একসময় অনেক কিছু হারিয়ে ‘ভিক্ষার জাতি’ হিসেবে পরিচিত ছিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত একটি দেশ হিসেবে। তবে আজ বাংলাদেশ উন্নতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন, “আজ আমরা উন্নয়নের রোল মডেল, বিশ্বের সম্মান অর্জন করেছি। কেউ আমাকে শরিয়াচারী বলুক বা গণহত্যাকারী বলুক, আমি জানি, বাংলাদেশ আজ কোথায় দাঁড়িয়ে আছে।”

তবে, বর্তমান সময়ে দেশে ঘটে যাওয়া পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “আজকের বাংলাদেশে পুলিশ হত্যার ঘটনা ঘটছে, প্রায় ৪০০ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। ছাত্র, যুবক, মহিলা— কেউ বাদ যাচ্ছে না। মায়েরা পর্যন্ত তাদের ছেলেদের জন্য সিঁড়ি নিচ্ছেন না, মাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, গাছের সাথে বেঁধে অপমান করা হচ্ছে, নেকাব পড়া অবস্থায় হত্যা করা হচ্ছে, আবার কেউ আগুনে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে। এটি কি বর্বরতা নয়? এরা কি গণহত্যাকারী নয়? এরা কি স্বেচ্ছাচারী নয়?”

শেখ হাসিনা আরও বলেন, “আমি গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করেছিলাম ১৯৯০ সালে ৬০০০ টাকা বেতনে। কিন্তু ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর, গ্রামীণ ব্যাংককে ৪০০ কোটি টাকা দিয়ে দাঁড় করাই। শুধু তাই নয়, গ্রামীণ ফোনের ব্যবসাও ড. ইউনুসকে দিয়েছিলাম। প্রতিশ্রুতি ছিল যে, গ্রামীণ ব্যাংকের উন্নতির জন্য লাভের একটি অংশ আসবে, কিন্তু তা হয়নি। বরং, ড. ইউনুস নিজেই দুর্নীতি এবং মানি লন্ডারিংয়ের সাথে জড়িত ছিলেন। তার ক্ষমতার লোভ আজ বাংলাদেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “কিন্তু তার মধ্যে কোনো মনুষ্যত্ব বা কৃতজ্ঞতাবোধ নেই, যে তার উপর এত বড় দায়িত্ব আর সহযোগিতা দিয়ে তাকে উন্নতিতে সাহায্য করা হয়েছে। তার কারণে আজ বাংলাদেশ ধ্বংসের মুখে চলে এসেছে।”

শেখ হাসিনা এই প্রসঙ্গে বলেন, “লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে পতাকা, যে সংবিধান, যে স্বাধীনতা পেয়েছি, তা কেউ ভেঙে ফেলতে পারবে না। ইতিহাস কখনো ভুলে যায় না। ৭৫-এর পর ইতিহাস মুছে ফেলা হয়েছিল, কিন্তু ইতিহাস আবার ফিরে এসেছে। যারা আজ এসব কাজ করছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা পছন্দ করে না, তারা পাকিস্তানি মানসিকতা নিয়ে কাজ করছে।”

তিনি আরও বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারির সময় যখন বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দায় ডুবে ছিল, তখনও আমরা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়েছিলাম। তাদের পড়াশোনার জন্য আমরা অনলাইনে ক্লাস শুরু করি, টেলিভিশনে শিক্ষা কার্যক্রম প্রচারিত হয়, যাতে পড়াশোনা থেমে না যায়। আমাদের কাজ ছিল, দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার গতি অব্যাহত রাখা।”

এভাবেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের জন্য তার দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করেছেন, যা বাংলাদেশের উন্নতির পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সোহাগ/

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ