ঢাকা, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫, ১৯ চৈত্র ১৪৩১

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী এখন এক সন্তানের জননী

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৫ মার্চ ২৪ ১৪:২৪:৫৪
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী এখন এক সন্তানের জননী

নিজস্ব প্রতিবেদক: নাটোরের গুরুদাসপুরের এক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীর জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যে বয়সে তার স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল, সে বয়সেই এক সন্তানের মা হয়ে উঠেছে। জানা গেছে, চতুর্থ শ্রেণীতে পড়াকালীন সময়ে জাহেদুর খা নামক এক ব্যক্তির দ্বারা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ওই কিশোরী একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। এই ঘটনার পরেও এখনও তাকে ন্যায্য বিচার মেলেনি।

মামলা দায়ের করার পর থেকেই সামাজিকভাবে নানা অস্বস্তি ও অবহেলার মুখে পড়েছেন তিনি। তাকে মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আর সন্তান পালনসহ নানা কারণে তার জীবন এখন অতি কঠিন। শৈশব আর কিশোরত্ব প্রায় হারিয়ে গেছে, লেখাপড়া তো একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে।

কিশোরী জানায়, দুই বছর আগে স্কুল থেকে ফিরছিলেন তিনি, তখন জাহেদুর খা তাকে জোর করে ঘরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করেন। ভয় পেয়ে সে কাউকে কিছু বলেনি। কয়েক মাস পর তার পেটে ব্যথা অনুভব হলে, তিনি তার দাদিকে বিষয়টি জানান। চিকিৎসকরা তাকে জানান যে তিনি গর্ভবতী। পরে দাদির সহায়তায় হাসপাতালে গিয়ে কন্যা সন্তান জন্ম দেন।

তবে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় সুবিচার মেলেনি। কিশোরী এখন একটি দেড় বছরের ফুটফুটে কন্যা নিয়ে জীবনের কঠিন বাস্তবতা মোকাবিলা করছে। তার বাবা অন্যত্র বিয়ে করেছেন এবং সে ছোট থেকে তার দাদীর কাছে লালিত-পালিত হচ্ছিল। কিন্তু জীবনে এক অন্ধকার অধ্যায় শুরু হয়, যখন জাহেদুর খা তাকে নির্যাতন করে।

২০২৩ সালের ১৮ জুন, কিশোরীর দাদি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে জাহেদুর খার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তবে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে বিলম্ব করে এবং পরে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। ছয় মাস পরে জামিনে মুক্ত হয়ে, অভিযুক্ত কিশোরী ও তার দাদীকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে।

কিশোরী আরও জানায়, দুই বছর আগে মাঠে কাজ করার সময় তাকে জোর করে ঘরে নিয়ে গিয়ে পেটে আঘাত করা হয় এবং পরে সে গর্ভবতী হয়ে পড়ে। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনও কোনো সঠিক বিচার হয়নি।

কিশোরীর পরিবার অভিযোগ করেছে যে অভিযুক্তের স্ত্রী তাদেরকে হুমকি দিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার জন্য মামলাটি তুলে নিতে চেষ্টা করছেন। তবে স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজসেবা বিভাগ কিশোরী ও তার শিশুর স্বাস্থ্য এবং আর্থিক সহায়তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এই ঘটনায় সমাজবিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিয়েছেন যে শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানো উচিত এবং এমন ধরনের নির্যাতন বা অবিচার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সোহাগ/

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ