ঢাকা, সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫, ১৭ চৈত্র ১৪৩১

বাংলাদেশের জন্য খোড়া গর্তে পড়ল ভারত

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৫ মার্চ ২৭ ২৩:১২:৫৮
বাংলাদেশের জন্য খোড়া গর্তে পড়ল ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজ দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলেও, ৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত একের পর এক মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে বিশ্বে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক হিসেবে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই ষড়যন্ত্রে ভারত নিজেই ফেঁসে গেছে। এবার যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক সংস্থা বাংলাদেশে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছে, যা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন সাংবাদিক আরিফ হাসান।

ভারত, যেখানে মুসলিমরা বৃহত্তম ধর্মীয় সংখ্যালঘু, সেখানে প্রায়ই হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের সহিংস আক্রমণ ও হামলার শিকার হন। মুসলিমদের বাড়িঘর ভেঙে ফেলা, জোর করে "জয় শ্রীরাম" বলানো এবং মসজিদ ভেঙে ফেলার মতো ঘটনা সেখানে অহরহ ঘটে। রাস্তাঘাটে মুসলিম নারীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করা যেন একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে, সামাজিক বা রাষ্ট্রীয়ভাবেও মুসলমানরা ব্যাপক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। এমনকি দেশের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে, এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজেও মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশে ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে ৯১% মুসলিম, বাকি ৮% হিন্দু এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। মুসলমানরা যখন নামাজ আদায় করেন, তখন হিন্দুদের উৎসবগুলো বন্ধ থাকে এবং মুসলমানদের মিলাদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবে হিন্দুরাও উপস্থিত থাকেন। সংকটকালীন সময়ে মুসলিমরা হিন্দু মন্দির পাহারা দেয়, এমনকি ফসলের মাঠ থেকে শুরু করে পার্লামেন্ট পর্যন্ত সব সেক্টরে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষ একত্রে কাজ করে। এই সহনশীল পরিবেশের মধ্যে ভারত ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে থাকে। ভারতের রাজনৈতিক নেতারা এসব মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে হেয় করতে থাকে, এবং ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোও বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে অপপ্রচার চালাতে থাকে।

তবে শেষ পর্যন্ত ভারত এই ষড়যন্ত্রে নিজেরাই ফেঁসে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংস্থা "কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম" প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে ভারতে মুসলমানরা দিন দিন অমানবিক আচরণের শিকার হচ্ছেন। ২০২৪ সালে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে, কারণ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও বৈষম্য বেড়ে গেছে। মার্কিন সরকারও ভারতকে বিশেষ উদ্বেগের দেশ হিসেবে চিহ্নিত করার আহ্বান জানিয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তাদের নির্বাচনী প্রচারণায় মুসলিমসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন এবং ভুল তথ্য ছড়িয়েছেন।

এছাড়া, মার্কিন কমিশন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা "রয়" এর বিরুদ্ধে খালিস্তানপন্থী নেতাদের গুপ্ত হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে।

এই পরিস্থিতি বাংলাদেশকে নিয়ে ভারত যেভাবে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে, তার ফলাফল হিসেবে এখন আন্তর্জাতিক মহলে ভারতকে আরও বেশি সমালোচনার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। বিশেষ করে ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি অমানবিক আচরণ এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সেগুলোর সমর্থন নিয়ে একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, যা ভারতকে সংকটে ফেলেছে।

এদিকে, বাংলাদেশের জনগণ এভাবে একে অপরকে সহযোগিতা করে সহাবস্থান করছে, যা বিশ্বের সামনে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতের ষড়যন্ত্র এবং মিথ্যা অভিযোগের পরেও, বাংলাদেশের মানুষ তাদের ঐক্য এবং শান্তির পথ থেকে সরে আসেনি, বরং আরও দৃঢ়ভাবে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে।

আরিফ/

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ