ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫, ১৯ চৈত্র ১৪৩১

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ড. ইউনূসের সাথে বৈঠক করার প্রচেষ্টা

বিশ্ব ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৫ মার্চ ২৯ ২১:৪৩:৫১
মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ড. ইউনূসের সাথে বৈঠক করার প্রচেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মিয়ানমারে চলছে ব্যাপক নির্যাতন, যার ফলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্ক এখন একদম তলানিতে পৌঁছেছে। তবে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মিয়ানমার সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ পর্যায়ে খবর পাওয়া গেছে যে, বিমস্টেক সম্মেলনের ফাঁকে মিয়ানমার সরকার ড. মোহাম্মদ ইউনূসের সাথে বৈঠক করার চেষ্টা করছে।

মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হালাইং আগামী সপ্তাহে থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বিমস্টেক সম্মেলনে যোগ দেবেন। এটি তার জন্য একটি বিরল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সফর। মিয়ানমার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, যাতে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূসসহ অন্যান্য আঞ্চলিক নেতাদের সাথে তার বৈঠকের সুযোগ তৈরি করা যায়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক সরকার মিন অং হালাইংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক আয়োজনের জন্য চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অন্যান্য আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানোর পর থেকে মিন অং হালাইং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছেন। তার নেতৃত্বে মিয়ানমারে সামরিক দমন-পীড়ন শুরু হয়, যার ফলে ব্যাপক গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়, লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ে। পশ্চিমা দেশগুলো ইতোমধ্যে তার উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট *আশিয়ান*ও তাকে নিষিদ্ধ করেছে, কারণ তিনি জোটের শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিমস্টেক সম্মেলনে যোগদান এবং আঞ্চলিক নেতাদের সাথে বৈঠক করার প্রচেষ্টা মূলত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের কৌশল। মিয়ানমার এই কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তার সরকারের বৈধতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার অবস্থান শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।

রয়টার্স আরও জানায়, মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তারা বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠক করার অনুরোধ করেছেন। তবে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ভারতীয় একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, মিয়ানমারের পক্ষ থেকে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে মিন অং হালাইংয়ের বৈঠক করার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, তবে ভারত এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, বিমস্টেক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী সকল দেশ উপস্থিত থাকবে, তবে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে চলমান আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে অন্যান্য দেশের নেতারা তার সাথে বৈঠকে আগ্রহী হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে গভীর রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, মিয়ানমারের জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশেরও বেশি বর্তমানে মানবিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল।

— মোহাম্মদ সোহাগ/

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ