ঢাকা, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫, ১৯ চৈত্র ১৪৩১

বাংলাদেশে ভয়ংকর ভূমিকম্পের আশঙ্কা

জাতীয় ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৫ মার্চ ৩০ ১৪:৪১:৫৪
বাংলাদেশে ভয়ংকর ভূমিকম্পের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মিয়ানমারের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশের ভূমিকম্পের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ভূমিকম্পের শক্তি এবং উদ্বেগ সীমা ছাড়িয়ে গেছে, এবং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বাংলাদেশে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের মতো একই ধরনের শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভূমিকম্পের শক্তি প্রায় ৩৩৪টি আণবিক বোমার সমান। এটি পৃথিবীর বুকে ছুরির মতো বড় আঘাত হতে পারে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ জেমস জ্যাকসন ভূমিকম্পের ভয়াবহতা সম্পর্কে বলেন, "এই ভূমিকম্প এক মিনিট স্থায়ী ছিল," এবং তিনি আরও বলেন, "একটি কাগজ ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং তা সেকেন্ডে ২ কিলোমিটার গতিতে ছিঁড়ে যাচ্ছে।"

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল, বিশেষত ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং ময়মনসিংহ, ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদ্য প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার এবং থাইল্যান্ডে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছে, যার রিক্টার স্কেলে মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.৭ এবং ৬.৪। এর ফলে দুই দেশেই ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, এবং বাংলাদেশেও এমন শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, "ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে যে পরিণতি হতে পারে, তা অকল্পনীয়।" গবেষণায় উঠে এসেছে, মিয়ানমার বা থাইল্যান্ডের ভূমিকম্পের তুলনায় কম মাত্রার ভূমিকম্প হলেও ঢাকার প্রায় ৪০% ভবন ধ্বংস হয়ে যাবে।

গবেষকরা আরও জানান, ১৮৮৫ সালে টাঙ্গাইলের মধুপুর অঞ্চলে ৭.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল, যা ছিল প্রায় ১৩৯ বছর আগে। যদি বর্তমান সময়ে ওই ভূগর্ভস্থ ফাটল রেখায় ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে, তবে ঢাকায় কমপক্ষে ৮ লাখ ৬৪ হাজার ভবন ধ্বংস হয়ে যাবে এবং এতে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে, যদি ভূমিকম্পটি দিনের বেলায় ঘটে। রাতের বেলায় এই সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়, ঢাকা তখন এক বিস্ফোরণ শহরে পরিণত হবে। কারণ, শহরের পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা এতটাই অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে যে, ভূমিকম্পে বিপর্যয়ের মাত্রা হবে একেবারেই কল্পনাতীত।

এ বিষয়ে উদাহরণ হিসেবে তুরস্ক ও সিরিয়ার ২০২৩ সালের ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে তুরস্কে ৫০০ জনের বেশি এবং সিরিয়ায় প্রায় ১৫,০০০ জন মারা গিয়েছিলেন। ওই ভূমিকম্পের ভয়াবহতা গোটা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে তুরস্ক বা সিরিয়ার মতো ভূমিকম্প হলে মৃতের সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়তে পারে, কারণ এখানে ভূমিকম্প-সহনীয় ভবন হাতে গোনা, কিন্তু বহুতল ভবন অসংখ্য। এর ফলে ক্ষতির পরিমাণ হতে পারে অনেক বেশি।

সোহাগ/

ট্যাগ: ভুমিকম্প

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ