ঢাকা, বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫, ১৯ চৈত্র ১৪৩১

বাংলাদেশ দলে খেলে হামজা চৌধুরী কত টাকা পেলেন

ফুটবল ডেস্ক . ২৪ নিউজ
২০২৫ মার্চ ৩০ ২০:২৫:৪৫
বাংলাদেশ দলে খেলে হামজা চৌধুরী কত টাকা পেলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলার হামজা চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বেশ উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। ২৫ মার্চ ভারতের বিরুদ্ধে খেলার মাধ্যমে তিনি জাতীয় দলে অভিষেক করেন। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে, জাতীয় দলের হয়ে খেলা থেকে হামজা কি ধরনের আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন?

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ম্যাচ ফি নেই। ক্যাম্পে থাকলে ফুটবলাররা প্রতিদিন ২০ হাজার টাকা সম্মানী পান, তবে এটি মাঝে মাঝে সময়মতো প্রদান করা হয় না। খেলোয়াড়রা জার্সি ও ট্র্যাকস্যুট পান, কিন্তু বুটসহ অন্যান্য সরঞ্জাম তাদের নিজেরাই কিনতে হয়।

হামজা চৌধুরী ম্যানচেস্টার থেকে বাংলাদেশে এসে আবার ম্যানচেস্টারে ফিরে যান। দীর্ঘ এই যাত্রার জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তাকে বিজনেস ক্লাসের টিকিট প্রদান করে। তবে অন্যান্য খেলোয়াড়দের মতোই তিনি শিলং ও গৌহাটির সফরে ইকোনমিক ক্লাসের টিকিট ব্যবহার করেন এবং সাধারণ টিম বাসে যাতায়াত করেন।

হোটেল ব্যবস্থাপনায়ও কিছুটা ভিন্নতা দেখা যায়। শিলংয়ে তিনি সাধারণ সিঙ্গেল রুমে ছিলেন, তবে ঢাকায় তাকে সম্মান জানিয়ে বিশেষ কক্ষে রাখা হয়েছিল।

জাতীয় দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের মতো হামজাও ২০ হাজার টাকা (প্রায় ২০০ ডলার) সম্মানী পেয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, হামজার সফরের খরচে বিজনেস ক্লাস টিকিট এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিক খরচ মিলিয়ে আনুমানিক ৫-৬ হাজার ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে এই খরচ বাফুফে বা তাবিথ আউয়াল নিজে বহন করেছেন, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ম্যানেজার আমের খান বলেন, হামজা একজন অমায়িক এবং বিনয়ী ব্যক্তি। তিনি দলীয় পরিবেশের সঙ্গে খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছেন এবং কোনো বাড়তি চাহিদা প্রকাশ করেননি। সাধারণ খেলোয়াড়দের মতোই তিনি দলের সঙ্গে সব কিছু উপভোগ করেছেন।

হামজা চৌধুরীর জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশ ফুটবলের জন্য ইতিবাচক একটি ঘটনা হতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের এই ফুটবলার মাঠে যেমন দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন, তেমনি মানসিকভাবে দলের প্রতি অনুপ্রেরণা জোগানোর দিকেও তার ভূমিকা থাকবে। তবে, তার মতো খেলোয়াড়দের যথাযথ সম্মানী এবং সুযোগ-সুবিধা প্রদান না করা হলে ভবিষ্যতে প্রবাসী ফুটবলারদের আকৃষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়বে।

হামজার বাংলাদেশ দলে যোগ দেওয়া নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তবে জাতীয় দলের আর্থিক নীতিমালা এবং ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। জাতীয় দলের জন্য এমন খেলোয়াড়দের আকর্ষণ করতে হলে, ফুটবলারদের যথাযথ সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সিদ্দিকা/

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ