ঢাকা, রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫, ২৩ চৈত্র ১৪৩১

আন্দোলনের পরে নিউইয়র্কে আশ্রয়: শামীম ওসমানকে নিয়ে ইলিয়াস হোসেনের মন্তব্য

২০২৫ এপ্রিল ০৫ ০৯:৫১:২১
আন্দোলনের পরে নিউইয়র্কে আশ্রয়: শামীম ওসমানকে নিয়ে ইলিয়াস হোসেনের মন্তব্য

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। দীর্ঘদিন ধরে চলা ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের চূড়ান্ত রূপ নেয় সেই দিনেই, যখন প্রবল জনচাপের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পথে বাধ্য হয়। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এর পর থেকেই শুরু হয় ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতাদের গা ঢাকা দেওয়ার পালা।

তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের এক আলোচিত নাম, নারায়ণগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, আন্দোলনের সময় গুলি চালানোর মতো মারাত্মক অভিযোগের মুখে পড়েন। আন্দোলনকারীদের দমন করতে তার ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর থেকেই ওসমান পরিবারের কাউকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। কেউ বলছিলেন, শামীম ওসমান ভারতে পালিয়েছেন। কেউ বলছিলেন, তিনি আরও দূরে, পশ্চিমা কোনো দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন। তবে এইসব গুঞ্জনের মাঝেই আজ কিছুটা নিশ্চিত হওয়া গেল তার অবস্থান।

প্রবাসী সাংবাদিক ও সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ব্যক্তিত্ব ইলিয়াস হোসেন আজ একটি পোস্ট দেন তার ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে। সেখানে তিনি একটি ছবি প্রকাশ করেন, যেখানে শামীম ওসমানকে নিউইয়র্ক শহরে দেখা যাচ্ছে। ছবিতে আরও তিনজন ব্যক্তি তার সঙ্গে আছেন, যদিও তাদের পরিচয় স্পষ্ট নয়।

ছবির ক্যাপশনে ইলিয়াস লেখেন, "বাংলাদেশের খেলা শেষ, তিনি এখন নিউইয়র্কে খেলছেন।" এই বাক্যটিই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার ঝড় তোলে।

ছবিটি প্রকাশের পর অনেকেই বলছেন, যিনি এক সময় 'গডফাদার' খেতাব পেয়েছিলেন, যিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন, আজ তিনি প্রবাসে আত্মগোপনে—এ যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, আন্দোলনের সময় যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন, তারা কি শেষ পর্যন্ত আইনের আওতায় আসবেন? নাকি বিদেশে পালিয়ে থেকেই তারা বেঁচে যাবেন?

আপনার জন্য বাছাই করা কিছু নিউজ