
সিনিয়র রিপোর্টার

আজ পবিত্র শবে বরাত, যা ইসলামে পরিচিত ‘লাইলাতুল বরাত’ নামে। হিজরি বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত এই রাত মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময়। ফারসি শব্দ ‘শবে বরাত’-এর অর্থ মুক্তির রাত। বিশ্বাস অনুযায়ী, এ রাতে মহান আল্লাহ অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন।
শবে বরাতের গুরুত্ব ও ফজিলত
হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন “যখন শাবান মাসের মধ্যবর্তী রাত আসে, তখন তোমরা রাতে ইবাদত করো এবং দিনে রোজা রাখো। কারণ সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং ঘোষণা করেন আছে কি কোনো ক্ষমা প্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করব। আছে কি কোনো রিজিক প্রার্থী? আমি তাকে রিজিক দেব। আছে কি কোনো বিপদগ্রস্ত? আমি তাকে মুক্তি দেব।”(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস: ১৩৮৮)
অন্য হাদীসে এসেছে, এই রাতে মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া আল্লাহ তাআলা সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহীহ ইবনে হিব্বান)
শবে বরাতের নামাজ: কত রাকাত পড়বেন?
শবে বরাতের জন্য নির্দিষ্ট কোনো রাকাত সংখ্যা নির্ধারিত নেই। যেহেতু এটি নফল ইবাদতের রাত, তাই সামর্থ্য অনুযায়ী ২ রাকাত করে যত ইচ্ছা নামাজ পড়া যায়। প্রচলিতভাবে অনেকেই ৮, ১২ বা ২০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করে থাকেন। তবে কম রাকাত হলেও যদি মনোযোগ ও একাগ্রতার সঙ্গে আদায় করা হয়, তাতেই বেশি সওয়াবের আশা করা যায়।
নামাজের নিয়ত ও পদ্ধতি
এই রাতের নফল নামাজ অন্যান্য নফল নামাজের মতোই আদায় করতে হয়।
নিয়ত: মনে মনে এই নিয়ত করাই যথেষ্ট “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শবে বরাতের ২ রাকাত নফল নামাজ আদায় করছি।”
পদ্ধতি: তাকবিরে তাহরিমা বলে সানা, সূরা ফাতিহা এবং অন্য একটি সূরা পড়ে নামাজ সম্পন্ন করতে হয়। এই রাতে দীর্ঘ কিরাত, রুকু ও সেজদা করা উত্তম।
শবে বরাতের করণীয় আমল
শবে বরাত মূলত ইবাদত, তওবা ও আত্মশুদ্ধির রাত। এ রাতে যেসব আমল করা উত্তম—
নফল নামাজ: তাহাজ্জুদ ও সালাতুত তাসবীহ আদায় করা যেতে পারে।
কুরআন তিলাওয়াত: অর্থসহ কুরআন পাঠ করা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ।
জিকির ও দরুদ: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং দরুদ শরীফ পাঠ।
তওবা ও ইস্তিগফার: গুনাহের জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
কবর জিয়ারত: রাসূল (সা.) এই রাতে জান্নাতুল বাকিতে গিয়ে দোয়া করেছিলেন। তাই সম্ভব হলে মৃত আত্মীয়দের জন্য দোয়া করা।
পরদিন রোজা: ১৫ই শাবান রোজা রাখা মুস্তাহাব।
শবে বরাতের দোয়া
এই রাতে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নির্ধারিত না থাকলেও ক্ষমা প্রার্থনার জন্য রাসূল (সা.)-এর শেখানো দোয়াটি বেশি পড়া উত্তম—
“আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি।” (হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন।)
বর্জনীয় কাজ ও কুসংস্কার
শবে বরাত উপলক্ষে আতশবাজি, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা, হইহুল্লোড় বা প্রদর্শনমূলক আয়োজন ইসলামের সমর্থিত নয়। ইবাদত নিভৃতে ও একান্তভাবে করাই উত্তম। হালুয়া-রুটি বা খাবার নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে আল্লাহর ধ্যানে সময় কাটানোই এই রাতের প্রকৃত শিক্ষা।
মহান আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে এই পবিত্র রাতের বরকত দান করেন এবং সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন—আমিন।