
হাসান: দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজারে আবারও বেড়েছে ভোজ্যতেল ও চিনির দাম। রমজানকে সামনে রেখে পর্যাপ্ত আমদানি থাকা সত্ত্বেও বাজারে অস্থিরতার চিত্র স্পষ্ট। গত এক সপ্তাহেই ভোজ্যতেলের প্রতি মণে ৬০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে চিনির দামও প্রতি কেজিতে অন্তত ৫ টাকা বেড়েছে।
আমদানি পর্যাপ্ত, তবুও প্রশ্ন কেন মূল্যবৃদ্ধি?
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের তথ্য অনুযায়ী, গত সাড়ে সাত মাসে দেশে ১৫ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে এসেছে প্রায় ৪ লাখ মেট্রিক টন চিনি।
এই পরিমাণ আমদানি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতির কথা ওঠার সুযোগ নেই।
কাস্টমসের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন জানিয়েছেন, “যথেষ্ট আমদানি হয়েছে। বাজার মনিটরিং জোরদার করা গেলে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।”
খাতুনগঞ্জে বর্তমান পাইকারি দর
পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন—
পাম অয়েল: প্রতি মণে ৫০–৬০ টাকা বৃদ্ধি
সুপার তেল: প্রতি মণে ৬০ টাকা বৃদ্ধি
সয়াবিন তেল: প্রতি মণে প্রায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি
চিনি: সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী আহমেদ সবুজ বলেন, “হঠাৎ করে দাম কিছুটা বেড়েছে। আগের তুলনায় প্রতি মণে ৪০–৫০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে।”
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য বনাম ভোক্তা অধিকার সংস্থার দাবি
কিছু ব্যবসায়ী দাবি করছেন—বাজারে কোনো কারসাজি নেই এবং খুচরা পর্যায়ের মূল্যবৃদ্ধি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মীর আবদুস সালাম বলেন, “খুচরা বাজার মনিটরিং করা প্রশাসনের দায়িত্ব।”
তবে ভোক্তা অধিকার সংগঠন CAB-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন ভিন্ন মত দিয়েছেন। তার মতে, “রমজানকে সামনে রেখে কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।”
রমজানে চাহিদা কত?
বাংলাদেশে বছরে গড়ে প্রয়োজন হয়—
২০–২২ লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল
১৮–২০ লাখ মেট্রিক টন চিনি
শুধু রমজান মাসেই প্রয়োজন হয়—
প্রায় ৩ লাখ টন তেল
প্রায় ২.৫ লাখ টন চিনি
এখন পর্যন্ত এলসি খোলায় কোনো বড় সমস্যা না থাকায় প্রয়োজনীয় পণ্য আগেভাগেই আমদানি সম্পন্ন হয়েছে।
ভাসমান গুদামের অভিযোগ
কর্ণফুলী নদীতে লাইটারেজ জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কোস্টগার্ড ও বন্দর কর্তৃপক্ষ অভিযানও চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এ ধরনের পদ্ধতি বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে।
সারসংক্ষেপ
পর্যাপ্ত আমদানি থাকা সত্ত্বেও বাজারে মূল্য অস্থিরতা ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগজনক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি ও কার্যকর বাজার মনিটরিং থাকলে পাইকারি ও খুচরা দামের অস্বাভাবিক ব্যবধান দ্রুত কমে আসতে পারে।