
রির্পোটার

বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে এসেছে একসঙ্গে দুটি বড় সুখবর। ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই দেশে বসতে যাচ্ছে আরেকটি বড় আইসিসি টুর্নামেন্ট। পাশাপাশি সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিরুদ্ধে কোনো আর্থিক জরিমানা বা প্রশাসনিক শাস্তি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
লাহোর বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি
সম্প্রতি পাকিস্তানের লাহোরে আইসিসি, পিসিবি ও বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সৌহার্দ্যপূর্ণ এই আলোচনায় দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট উন্নয়ন, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নানা দিক উঠে আসে। মূল লক্ষ্য ছিল পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী করা।
বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের মর্যাদা
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতির জন্য আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করলেও, দেশটির ক্রিকেট অবদানকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি। ২০ কোটির বেশি সমর্থক নিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বড় বাজার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিসিবিকে পুনরায় ‘মূল্যবান পূর্ণ সদস্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আইসিসি বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছে।
২০২৮–২০৩১ এর মধ্যে নতুন মেগা ইভেন্ট
সবচেয়ে বড় ঘোষণা হলো ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই বাংলাদেশ একটি বড় আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ পাবে। ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে সম্ভাব্য এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের বিষয়ে নীতিগত সমঝোতা হয়েছে। আইসিসি জানিয়েছে, বিসিবির সংগঠনিক দক্ষতার ওপর তাদের আস্থা রয়েছে, তবে আয়োজক নির্বাচন পদ্ধতি ও নির্ধারিত শর্ত মেনেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শাস্তিমুক্ত বিসিবি, বহাল থাকছে অধিকার
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়া সত্ত্বেও বিসিবির ওপর কোনো আর্থিক জরিমানা, প্রশাসনিক চাপ বা ক্রীড়াগত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে না। বরং সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রাধান্য দিয়েছে আইসিসি। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে বিসিবি আইসিসির ‘ডিসপিউট রেজুলিউশন কমিটি’ (ডিআরসি)-এর সহায়তা নিতে পারবে এই অধিকারও বহাল রাখা হয়েছে।
আইসিসি জানিয়েছে, এসব সিদ্ধান্ত তাদের বিদ্যমান শাসন কাঠামো বা সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসনকে প্রভাবিত করবে না; বরং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।