-6.jpg)
সিনিয়র রিপোর্টার

রাকিব: সম্প্রতি শিশির মনির (জামায়াত) এবং আসিফ মাহমুদ (এনসিপি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা দিলে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্মেছে। অনেকের মনেই প্রশ্ন—‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ আসলে কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?
ছায়া মন্ত্রিসভা, বা Shadow Cabinet, মূলত বিরোধী দল কর্তৃক গঠিত একটি সমান্তরাল কাঠামো। এটি পশ্চিমমিনস্টার ধারার সংসদীয় গণতন্ত্রে অত্যন্ত পরিচিত। সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার জন্য বিরোধী দল এক একজন ‘ছায়া মন্ত্রী’ নিয়োগ করে।
মূল কাজ ও কার্যাবলি
একটি আদর্শ ছায়া মন্ত্রিসভা সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষ্য পূরণ করে:
তদারকি ও সমালোচনা: সরকারের নীতি, বাজেট ও সিদ্ধান্তগুলো পর্যবেক্ষণ করা। কোনো ত্রুটি বা ব্যর্থতা থাকলে তা জনসমক্ষে তুলে ধরা।
বিকল্প প্রস্তাব: সরকার কোনো ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে, বিরোধী দল কী পদক্ষেপ নিত, তা তুলে ধরা।
জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা: সংসদে প্রশ্ন তোলার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে দায়িত্বশীল করে তোলা।
ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি: বিরোধী দলের নেতাদের প্রশিক্ষণ হিসেবে কাজ, যাতে তারা ক্ষমতায় এলে দক্ষতার সঙ্গে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে পারেন।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রেক্ষাপট
যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া: এই দেশগুলোতে ছায়া মন্ত্রিসভা শক্তিশালী। তারা নিয়মিত সরকারের নীতি পর্যবেক্ষণ করে এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাণবন্ত রাখে।
বাংলাদেশ: আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দীর্ঘ ইতিহাস বা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, কার্যকর ছায়া মন্ত্রিসভা গঠিত হলে তা সরকারের স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং বিরোধী দলের গঠনমূলক রাজনীতি চর্চায় সহায়ক হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কী বলছেন?
বাংলাদেশে যদি কার্যকর ছায়া মন্ত্রিসভা গঠিত হয়, তা সরকারের প্রতি মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং জাতীয় রাজনীতিকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করে তুলবে। বিরোধী দলের পর্যবেক্ষণ ও বিকল্প প্রস্তাব সরকারি নীতি প্রণয়নকে আরও গতিশীল ও সুশাসনমুখী করতে সাহায্য করবে।
ছায়া মন্ত্রিসভার ধারণা শুধুমাত্র বিরোধী দলের ‘নজরদারি’ নয়, বরং এটি ক্ষমতার প্রতি দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করে।