
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় ধাক্কা। নতুন সপ্তাহের শুরুতেই সোনার দামে আরও এক দফা বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন দরে ভরিপ্রতি ভালো মানের সোনার দাম এখন ২ লাখ ৬১ হাজার টাকারও বেশি।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা—অর্থাৎ খাঁটি সোনার—দাম বাড়ায় এ সমন্বয় করা হয়েছে। ফলে খুচরা বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে।
ভরিপ্রতি সোনার সর্বশেষ দর
নতুন ঘোষিত দরে মানভেদে সোনার দাম দাঁড়িয়েছে—
মান মূল্য (ভরিপ্রতি)২২ ক্যারেট ২,৬১,০৪০ টাকা২১ ক্যারেট ২,৪৯,১৪৩ টাকা১৮ ক্যারেট ২,১৩,৫৬৮ টাকাসনাতন পদ্ধতি ১,৭৪,৭৮৫ টাকা
সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ২২ ক্যারেট সোনার দামই এখন বাজারে রেকর্ড উচ্চতায় অবস্থান করছে।
গয়না কেনার আগে যা জানা জরুরি
ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—উল্লিখিত দামের সঙ্গে অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হবে।
বাধ্যতামূলক ৫% ভ্যাট
ন্যূনতম ৬% মজুরি
তবে গয়নার নকশা ও কারুকাজভেদে মজুরির হার আরও বাড়তে পারে। অর্থাৎ দোকানে গিয়ে অলঙ্কার কিনতে গেলে প্রকৃত ব্যয় তালিকাভুক্ত দামের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি হতে পারে।
রুপার বাজার স্থিতিশীল
সোনার বাজারে টানা ওঠানামার বিপরীতে রুপার দামে এদিন কোনো পরিবর্তন আসেনি। ভরিপ্রতি রুপার বর্তমান দর—
২২ ক্যারেট: ৬,৩৫৭ টাকা
২১ ক্যারেট: ৬,০৬৫ টাকা
১৮ ক্যারেট: ৫,১৯০ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: ৩,৯০৭ টাকা
রুপার বাজার আপাতত স্থির থাকলেও স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।
২০২৬ সালে দামের রেকর্ড ওঠানামা
চলতি বছরের শুরু থেকে দেড় মাসেই সোনার দাম ২৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে—
১৮ বার বেড়েছে
১০ বার কমেছে
শুধু ২০২৫ সালেই বাজুস রেকর্ড ৯৩ বার সোনার দাম পরিবর্তন করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালেও স্বর্ণবাজারে অস্থির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।