
রিপোর্টার

বিশ্ব অর্থনীতিতে ধীরে ধীরে স্থিতিশীলতার আভাস এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও, যা স্বর্ণপ্রেমী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তির আবহ তৈরি করেছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৩৩ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম আগের দিনের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ৪,৬০৪ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির গোল্ড ফিউচারসের দামও কিছুটা কমে প্রায় ৪,৬০৮ ডলারে অবস্থান করে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা কমে যাওয়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার প্রতি চাহিদা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ শিগগিরই সুদহার কমাবে এমন সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে আসায় সোনার দামে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। একই সময়ে রুপার দাম প্রায় ১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে।
দেশের বাজারে বর্তমান সোনার দর
বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী-
২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,৩৪,৬৮০ টাকা
২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২,২৪,০০৭ টাকা
১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১,৯১,৯৮৯ টাকা
সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১,৫৭,২৩১ টাকা
দাম কিছুটা কমে আসায় অনেকেই নতুন করে সোনায় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে, তাই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিতে হবে সতর্কতার সঙ্গে।