
সিনিয়র রিপোর্টার

রাকিব: দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করতে চালু হতে যাচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। মূল্যস্ফীতির চাপে যখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েই চলেছে, ঠিক তখনই আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে নতুন সরকার।
এই কর্মসূচির লক্ষ্য—সরাসরি সহায়তার মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগীদের পাশে দাঁড়ানো এবং মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
কী সুবিধা মিলবে?
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলোকে সরাসরি নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই অর্থ পরিবারের নারী সদস্য বা গৃহকর্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নারীর আর্থিক ক্ষমতায়ন আরও শক্তিশালী হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বিদ্যমান সামাজিক ভাতার তুলনায় এই কর্মসূচিতে সহায়তার পরিমাণ বেশি রাখা হবে। ফলে উপকারভোগীরা বাস্তবিক অর্থেই আর্থিক স্বস্তি পাবে।
তথ্যভিত্তিক বাছাই ও স্বচ্ছতা
সহায়তা কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও নির্ভুল রাখতে একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ভিত্তিক তথ্য সংরক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের প্রোফাইল তৈরি করা হবে।
এর ফলে অনিয়ম, জালিয়াতি ও মধ্যস্থতার সুযোগ কমে আসবে। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই কর্মসূচি চালু হবে। সফল বাস্তবায়নের পর স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
আবেদন করতে যা প্রস্তুত রাখবেন
আবেদন প্রক্রিয়া এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়নি। তবে আগাম প্রস্তুতির জন্য নাগরিকদের নিচের কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে—
১. আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)
২. পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি
৩. একটি সচল মোবাইল নম্বর
কোথায় ও কীভাবে আবেদন?
পাইলট প্রকল্প শেষে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কাউন্সিলর কার্যালয় থেকে সরাসরি আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে। পাশাপাশি দ্রুত ও সহজ প্রক্রিয়ার জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল চালুর প্রস্তুতিও নিচ্ছে সরকার।
প্রতি পরিবারে একটি মাত্র কার্ড ইস্যু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে মাসিক নগদ সহায়তা কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যাবে।