
রিপোর্টার

হাসান: আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার দাবি নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কর্মচারীরা মনে করছেন, উৎসবের আগেই কার্যকর সিদ্ধান্ত না এলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
তাদের আশা—নতুন সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এমন একটি পদক্ষেপ নেবে, যা ঈদের আনন্দকে কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক করবে।
এক দশকের পুরোনো বেতন কাঠামো
সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়। এরপর কেটে গেছে প্রায় দশ বছর। এ সময়ে দ্রব্যমূল্য কয়েক গুণ বেড়েছে, কিন্তু বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি।
বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান বেতন দিয়ে দৈনন্দিন জীবনযাপনই কঠিন হয়ে উঠেছে। সেখানে ঈদের মতো বড় উৎসবের অতিরিক্ত খরচ সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব। তাই অন্তত বেতন সমন্বয় বা নতুন কাঠামোর ঘোষণা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তারা।
প্রশাসনিক প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক বার্তা
সচিবালয়সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন সরকারের কাছে এটি এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। ঈদের আগে আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা গেলে কর্মচারীদের কর্মউদ্দীপনা ও মনোবল বাড়বে।
বিশেষ করে নতুন নেতৃত্ব মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করবেন—এমন প্রত্যাশাই করছেন সাধারণ কর্মচারীরা। তাদের মতে, আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমেও গতি আসবে।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কর্মচারীদের আর্থিক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে প্রশাসনের কর্মদক্ষতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। তবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে কর্মচারী নেতারা অন্তর্বর্তীকালীন সমাধান হিসেবে অন্তত ৫০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বা বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের যুক্তি—দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো আসতে সময় লাগলেও, তাৎক্ষণিক স্বস্তির ব্যবস্থা এখনই প্রয়োজন।
সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় লাখো কর্মচারী
সারাদেশের কয়েক লাখ সরকারি কর্মচারীর দৃষ্টি এখন নতুন সরকারের প্রাথমিক সিদ্ধান্তগুলোর দিকে। ঈদুল ফিতরের আগেই কি কাঙ্ক্ষিত সুখবর মিলবে?
এই প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই।