রিপোর্টার

হাসান: জাকাত ইসলামের অন্যতম মৌলিক বিধান এবং ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের একটি। এটি শুধু একটি আর্থিক দান নয়, বরং সম্পদের পবিত্রতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। শরিয়তের নির্দেশ অনুযায়ী, স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক ও সম্পদশালী মুসলমান নারী-পুরুষকে প্রতি বছর তার নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের অংশ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করতে হয়।
নেসাব কী এবং কখন জাকাত ফরজ হয়?
শরিয়তে নির্ধারিত সীমা বা ‘নেসাব’ পরিমাণ সম্পদ এক হিজরি বছর ধরে কারও মালিকানায় থাকলে তার ওপর জাকাত ফরজ হয়। নেসাবের পরিমাণ হলো—
৭ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম স্বর্ণ
৫২.৫ তোলা বা ৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্য
অথবা এর সমপরিমাণ নগদ অর্থ
এই পরিমাণ বা তার বেশি বর্ধনশীল সম্পদ এক বছর ধরে থাকলে মোট সম্পদের ২.৫% বা ৪০ ভাগের ১ ভাগ জাকাত হিসেবে প্রদান করতে হবে।
যেসব সম্পদের ওপর জাকাত প্রযোজ্য
চার ধরনের সম্পদের ওপর জাকাত ফরজ হয়—
* স্বর্ণ
* রৌপ্য
* ব্যবসার পণ্য
* নগদ অর্থ
এগুলোকে বর্ধনশীল সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়।
জাকাত হিসাবের সহজ নিয়ম
যেদিন আপনার সম্পদ নেসাব পর্যায়ে পৌঁছাবে, সেদিন থেকেই জাকাতের বর্ষ গণনা শুরু হবে। এক হিজরি বছর পূর্ণ হলে তখন আপনার কাছে থাকা মোট বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫% জাকাত দিতে হবে।
নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রৌপ্য বা ব্যবসার পণ্য—সব একত্র করে হিসাব করতে হবে।
বিশেষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
বছরের মাঝামাঝি সময়ে অর্জিত অর্থ বা স্বর্ণও জাকাতের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।
জমি বা বাড়ির মতো স্থাবর সম্পত্তি যদি ব্যবসার উদ্দেশ্যে না হয়, তাহলে সেগুলোর ওপর জাকাত নেই।
ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি বা বাড়ি ভাড়া দিয়ে আয়ের মূল সম্পদের ওপর জাকাত নেই, কারণ এগুলো ব্যবসার পণ্য নয়।
জাকাত শুধু দানের বিধান নয়; এটি সম্পদের ভারসাম্য রক্ষা এবং সমাজে সহমর্মিতা ও সমতা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। নিয়মিত ও সঠিকভাবে জাকাত আদায় করলে সম্পদ পবিত্র হয় এবং সমাজে দরিদ্র মানুষের কষ্ট লাঘব হয়।