
রিপোর্টার

সাকিব: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ আগামী ১২ মার্চ প্রথম অধিবেশন বসাতে যাচ্ছে। নতুন সংসদ গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে—অধিবেশনের প্রথম দিনে সভাপতিত্বের দায়িত্ব কার হাতে থাকবে।
সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম অধিবেশন আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা থাকায় ১২ মার্চেই অধিবেশন ডাকা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের ভিত্তিতে অনুমোদনপ্রাপ্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
প্রথম দিন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন
অধিবেশনের প্রথম দিনেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব উপস্থাপন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ সংসদে তোলা হবে।
সভাপতিত্ব: কে হবেন প্রথম দিনের চেয়ারম্যান?
দ্বাদশ সংসদের স্পিকার পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় প্রচলিত নিয়মে অধিবেশন শুরু করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সাধারণত স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারই অধিবেশন পরিচালনা করেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত একজন সংসদ সদস্যই প্রথম দিনের সভাপতিত্ব করতে পারেন। সংসদ সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ১৯৭৩ সালের মতো এবারও একাধিকবার নির্বাচিত জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
বিরোধী দলের অবস্থান
বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন, প্রথম অধিবেশনে সিনিয়র সদস্যকে সভাপতির দায়িত্বে বসানোর নজির রয়েছে। তাই সরকারি দল উদ্যোগ নিলে তারা সহযোগিতা করবে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও পরবর্তী কার্যসূচি
প্রথম বৈঠকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। মন্ত্রিসভার অনুমোদিত ভাষণের পর অধিবেশন মূলতবী করা হবে। পরে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর বিস্তারিত আলোচনা হবে, যেখানে সরকার, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা বক্তব্য রাখবেন।
স্পিকার নির্বাচনের পর ২০ মিনিটের বিরতি দিয়ে নতুন স্পিকারের শপথ গ্রহণ হবে। এরপর তিনি ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনসহ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
শক্তিশালী বিরোধী দল
নতুন সংসদে মোট ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি, জামায়াত পেয়েছে ৬৮টি। এছাড়াও এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতিতে অধিবেশন প্রাণবন্ত হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও অর্থনৈতিক বিষয়ে জোরালো আলোচনা হবে।