সিনিয়র রিপোর্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য অবিলম্বে পৃথক বেতন স্কেল চালুর দাবি জোরালোভাবে তুলেছে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় সংগঠনের নেতারা বর্তমান বেতন কাঠামোর অসঙ্গতি ও বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরেন।
বর্তমান বেতন বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ
সভা শেষে শিক্ষক নেতারা জানান, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করা জরুরি। কিন্তু বর্তমানে একজন শিক্ষকের প্রারম্ভিক বেতন মাত্র ১২ হাজার ৫০০ টাকা—যা বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে টিকে থাকার জন্য একেবারেই অপ্রতুল।
তাদের ভাষায়, এই সামান্য বেতন শিক্ষকদের প্রতি একপ্রকার পরিহাস। বাড়তি ব্যয়ের চাপে শিক্ষক সমাজ ন্যূনতম জীবনযাপনেও হিমশিম খাচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা।
বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতায় চরম অসন্তোষ
শিক্ষক নেতারা জানান, বর্তমানে বাড়ি ভাড়া হিসেবে দেওয়া হয় মূল বেতনের মাত্র ৭ শতাংশ। বর্তমান বাজারদরে এই অর্থ দিয়ে কোনোভাবেই মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে চিকিৎসা ভাতা মাত্র ৫০০ টাকা—যা একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ফি হিসেবেও যথেষ্ট নয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব ভাতা পুনর্নির্ধারণ করে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
উৎসব ভাতায় বৈষম্যের অভিযোগ
আলোচনায় উৎসব ভাতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকারের আমলে শিক্ষকদের জন্য ২৫ শতাংশ এবং কর্মচারীদের জন্য ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা চালু হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সেই হার অপরিবর্তিত রয়েছে।
সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শিক্ষকদের উৎসব ভাতা আরও ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করলেও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয়নি। এতে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক নেতারা। তারা শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা এবং শান্তি বিনোদন ভাতা চালুর দাবি জানান।
সরকারের আশ্বাস, শিক্ষকদের প্রত্যাশা
মতবিনিময় সভায় শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষক সমাজের সমস্যাগুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং ধাপে ধাপে সমাধানের আশ্বাস দেন।
শিক্ষক সমাজ এখন প্রত্যাশা করছে—দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও মর্যাদা রক্ষায় দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি সম্মানজনক পৃথক বেতন স্কেল ঘোষণা করা হবে।